আখলাক অর্থ স্বভাব সমষ্টি বা চরিত্র। আখলাক বলতে সচ্চরিত্র ও অসচ্চরিত্র দুটিই বোঝায়।
আখলাকে হামিদাহ মানে সচ্চরিত্র। যে স্বভাব বা আচরণ সব সমাজে প্রশংসনীয় ও সমাদৃত এবং আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের কাছে প্রিয় তাকে আখলাকে হামিদাহ বা প্রশংসনীয় আচরণ বলে।
চরিত্রকে সুন্দর, নির্মল, মার্জিত ও আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে হলে আমাদেরকে সচ্চরিত্রের গুণাবলি অর্জন এবং অসচ্চরিত্রের বৈশিষ্ট্যাবলি বর্জন করতে হবে। সচ্চরিত্রের কয়েকটি গুণাবলি নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. সত্যবাদিতা মানবজীবনের একটি মহৎ গুণ। সত্যের মাধ্যমে মানুষ জীবনের প্রকৃত লক্ষ্যে পৌছতে পারে।
২. সচ্চরিত্রবান হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে চাইলে অবশ্যই আমানতদার হতে হবে।
৩. নিজেকে সচ্চরিত্রবান অর্থাৎ সুন্দর, নির্মল, মার্জিত ও আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে চাইলে কারও সাথে কোনো অঙ্গীকার করলে বা কাউকে কথা দিলে তা রক্ষা করতে হবে।
৪. সচ্চরিত্রের আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো আদল বা ন্যায়বিচার। নিজেকে সচ্চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে ন্যায়বিচার ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৫. নিজেকে আকর্ষণীয় চরিত্রের অধিকারী করতে চাইলে জীবনের সকল ক্ষেত্রে শালীনতা রক্ষা করে চলতে হবে।
৬. চরিত্রকে আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে চাইলে সর্বাবস্থায় হালাল উপার্জন করতে হবে।
৭. নিজেকে সচ্চরিত্রবান হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে বন্ধু নির্বাচনে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
৮. আখলাকে যামিমাহ বা নিন্দনীয় স্বভাবগুলো বর্জন করতে হবে।
সুতরাং আমাদের চরিত্রকে সুন্দর, নির্মল, মার্জিত ও আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে চাইলে সৎ গুণাবলি অর্জনের পাশাপাশি নিন্দনীয় স্বভাবগুলো বর্জন করতে হবে।
আখলাকে হামিদাহ বা সচ্চরিত্রের গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
১. জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যম: যার ভিতর সুন্দর চরিত্রের সমাবেশ রেশি তার ভিতর তাকওয়া বা খোদাভীতিও বেশি এবং যার ভিতর তাকওয়া বেশি সে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অতি প্রিয়।-আল্লাহ প্রিয় ব্যক্তিগণ নিঃসন্দেহে জান্নাতে প্রবেশ করবেন।
২. খাঁটি মুমিনের বৈশিষ্ট্য: সুন্দর চরিত্র ছাড়া মানুষের অস্তিত্বই বৃথা। যাদের নির্মল চরিত্র' আছে তারাই খাঁটি মুমিন।
৩. মৌলিক মানবীয় গুণ: যে কটি মৌলিক খুণাবলি মানুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছে, অন্যান্য সৃষ্ট জীব থেকে তাকে আলাদা করেছে তন্মধ্যে উত্তম আখলাক অন্যতম।
৪. জীবনের শ্রেষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ: মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ তার সুন্দর ও আকর্ষণীয় কোমল চরিত্র।
৫. শান্তি ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা: একজন উত্তম আখলাকসম্পন্ন ব্যক্তির দ্বারা সাধারণত কোনো মানুষের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় না। সেও তার জীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করে থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য যা কিছু প্রয়োজন তার কোনোকিছুই সচ্চরিত্র ছাড়া আশা করা যায় না। অতএব, দুনিয়াতে শান্তি ও আখিরাতে মুক্তির ফয়সালা একমাত্র সচ্চরিত্র ও আনুষঙ্গিক ইবাদতের মাধ্যমেই সম্ভব।
Related Question
View Allসিদক-এর অর্থ হলো- সত্যবাদিতা, সততা, সত্য কথা বলা, সত্য সাক্ষ্য দেওয়া ইত্যাদি।
মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের মাধ্যমে যেসব উত্তম আচার-ব্যবহার, চালচলন এবং স্বভাবের প্রকাশ পায় সেসবের সমষ্টিকে আখলাকে হামিদা বা উত্তম চরিত্র বলা হয়।
ফারজানার কর্মকাণ্ডে গিবত প্রকাশ পেয়েছে। কারণ সে তার বন্ধবী কাকলির বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু দোষত্রুটি অন্য সহকর্মীদের নিকট বলে বেড়ায়।
গিবত একটি সামাজিক অনাচার। কারও অগোচরে তার দোষত্রুটি অন্যের কাছে প্রকাশকে গিবত বলে। একে পরনিন্দাও বলা যায়। গিবত একটি ঘৃণিত ও জঘন্য কাজ। এটি কবিরা গুনাহ। এ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। রাসুল (স.) বলে, 'গিবত কী তা কি তোমরা জান?' লোকেরা উত্তরে বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। রাসুল (স.) বললেন, গিবত হলো তোমার ভাইয়ের সম্পর্কে তোমার এমন কথা বলা যা সে অপছন্দ করে। জিজ্ঞাসা করা হলো, আমি যা বলি তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে, এটাও কি গিবত হবে? রাসুলুল্লাহ (স.) বললেন, 'তুমি যা বলো তা যদি তার মধ্যে থাকে তাহলেই গিবত হবে। আর তুমি যা বলো তা যদি তার মধ্যে না থাকে, তবে তা হবে 'বুহতান' বা অপবাদ।' (মুসলিম)
গিবত একটি নিন্দনীয় কাজ। গিবতের মাধ্যমে মানুষে মানুষে ঘৃণা ও শত্রুতা সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে সমাজজীবনে ঝগড়া-ফাসাদসহ নানা অশান্তি সৃষ্টি হয়।
পবিত্র কুরআনুল করিমে গিবত করাকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে।
আল্লাহর বাণী : "তোমরা একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে, নিশ্চয়ই তা তোমরা অপছন্দ করবে।" (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১২)
তাই ফারাজানার উচিত গিবত পরিহার করা এবং স্বাভাবিকভাবে কাকলির পদোন্নতিকে মেনে নেওয়া।
ফারজানা কাকলির দোষত্রুটি প্রকাশ করলে, হামিদা বেগম বলেন, "আপা, কোনো অবস্থাতেই কাকলি আপার অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে সমালোচনা করা ঠিক নয়।" হামিদা বেগমের এ বক্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষত্রুটি প্রকাশ করার নাম গিবত। গিবত করা ইসলামে নিষিদ্ধ। এটি কবিরাহ গুনাহ। এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “তোমরা একে অপরের গিবত করো না।" (সূরা আল 'হুজুরাত : ১২) গিবত একটি নিন্দনীয় কাজ। এর মাধ্যমে মানুষে মানুষে ঘৃণা ও শত্রুতা সৃষ্টি হয় এবং সমাজজীবনে ঝগড়া ফাসাদসহ নানা অশান্তি সৃষ্টি হয়। গিবত শোনাও পাপ, কেউ গিবত করলে 'তাকে এ জঘন্য কাজ হতে বিরত রাখা উচিত। আর এ কাজটিই হামিদা বেগম করেছেন। গিবত থেকে বিরত থাকলে কবিরাহ গুনাহ হতে বেঁচে থাকা যায়, অন্যের শত্রুতা হতে রক্ষা পাওয়া যায়। সর্বোপরি আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়।
সুতরাং সবার উচিত গিবত হতে নিজেকে রক্ষা করা এবং গিবত চর্চা প্রতিরোধে এগিয়ে আসা।
গিবত একটি সামাজিক অনাচার। কারও অগোচরে তার দোষত্রুটি অন্যের কাছে প্রকাশকে গিবত বলে।
আখলাকে হামিদাহ্ বা সচ্চরিত্র আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ নিয়ামত। দুনিয়ায় আগত সকল নবি-রাসুলই উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। এছাড়াও পৃথিবীর স্মরণীয় ও বরণীয় মনীষিগণও উত্তম নৈতিক আদর্শ অনুশীলন করতেন। সচ্চরিত্রের মাধ্যমেই ইসলামের যাবতীয় সৌন্দর্য ফুটে ওে ওঠে। এছাড়া এর মাধ্যমে ব্যক্তিজীবন ও সমাজজীবন সুন্দর ও কল্যাণময় করা যায়। এজন্য আখলাকে হামিদাত্র বিশেষ প্রয়োজন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!